রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

রাজশাহীতে অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় চাকরি গেল নারী প্রশিক্ষকের

আরবিসি নিউজ
আরবিসি নিউজ
১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় চাকরি গেল নারী প্রশিক্ষকের

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর একটি বেসরকারি জিমে সহকর্মী প্রশিক্ষক ও এক প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করায় চাকরি হারানোর দাবি করেছেন এক নারী প্রশিক্ষক। তবে জিম কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছে।

অভিযোগকারী নারী প্রশিক্ষকের নাম কানিজ ইসলাম (৪০)। তিনি রাজশাহী নগরীর নিউমার্কেট এলাকার ‘মাসেল অ্যান্ড ফিটনেস জিম’-এ প্রায় দুই বছর ধরে প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সুজন শেখ।

কানিজ ইসলামের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে জিমের এক পুরুষ প্রশিক্ষক ও এক নারী প্রশিক্ষণার্থীর আচরণ ও চলাফেরা তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রথমে সহকর্মীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। পরে কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীও তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষকের স্ত্রীর কাছেও পৌঁছে যায়। এরপর থেকেই তার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং কেন তিনি বিষয়টি অন্যদের জানিয়েছেন—এ নিয়ে তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি প্রতিষ্ঠান মালিককে জানালে তিনি প্রমাণ চান। তখন তিনি জানান যে তার কাছে সরাসরি কোনো প্রমাণ না থাকলেও বিষয়টি সম্পর্কে কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী বক্তব্য দিতে পারবেন। এরপর প্রতিষ্ঠান মালিক তাকে বলেন, অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন ছিল না। পরবর্তীতে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন কানিজ।

তার দাবি, "যারা অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তারা বহাল তবিয়তে কর্মস্থলে রয়েছেন, অথচ অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরায় তাকে চাকরি হারাতে হয়েছে।"

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষক ও এক প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে জিমে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল। তাদের ভাষ্য, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো অভিযোগকারী প্রশিক্ষককে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সুশাসন বিশ্লেষক সুব্রত কুমার পাল বলেন, "মালিকপক্ষ খেয়ালখুশি মতো যেকোনো কর্মচারীকে চাকরি থেকে বাদ দেবে—এমনটা নৈতিকভাবে একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয়। এ ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত শ্রম আইন রয়েছে এবং বিষয়টি তদারকি করার জন্য নির্দিষ্ট অধিদপ্তরও আছে।" তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, "মালিকপক্ষ নিজের ইচ্ছামতো সব সিদ্ধান্ত নিলে তা একদিকে যেমন শ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘন করে, অন্যদিকে মানুষের প্রতি চরম অন্যায় সৃষ্টি করে। সমাজে যদি মানুষের শুভ বুদ্ধির উদয় না হয়, তবে একসময় বড় ধরনের সামাজিক সংকট তৈরি হবে।"

তবে এ বিষয়ে জিমের স্বত্বাধিকারী সুজন শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, "প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ পেশাগত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কারও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানের কোনো অবস্থান নেই।"

তিনি আরও বলেন, "চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই দেওয়া হয়েছে। বিনা নোটিশে বাদ দেওয়ার বিষয়টি সত্যি নয়, তাকে এই মাসের ১২ তারিখে বলা হয়েছে যে আগামী মাস থেকে আর আসার দরকার নেই। তা ছাড়া তার সাথে আমাদের কোনো চুক্তিপত্র নেই, ট্রেইনার হিসেবে তাকে কোনো নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়নি।" অন্যান্য কর্মীদের কোনো নিয়োগপত্র আছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন শেখ বলেন, "এটি একটি ক্লাব, এখানে কেউ চাকরি করে না। প্রশিক্ষক হিসেবে যারা কাজ করেন তারা পার্টটাইম কাজের জন্য পারিশ্রমিক পান।" অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের বাইরে কার সাথে কার কী সম্পর্ক থাকবে সেটি তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার, এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

rbcnewsbd.com
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

রাজশাহীতে অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় চাকরি গেল নারী প্রশিক্ষকের

রাজশাহীতে অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় চাকরি গেল নারী প্রশিক্ষকের

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর একটি বেসরকারি জিমে সহকর্মী প্রশিক্ষক ও এক প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করায় চাকরি হারানোর দাবি করেছেন এক নারী প্রশিক্ষক। তবে জিম কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছে।

অভিযোগকারী নারী প্রশিক্ষকের নাম কানিজ ইসলাম (৪০)। তিনি রাজশাহী নগরীর নিউমার্কেট এলাকার ‘মাসেল অ্যান্ড ফিটনেস জিম’-এ প্রায় দুই বছর ধরে প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সুজন শেখ।

কানিজ ইসলামের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে জিমের এক পুরুষ প্রশিক্ষক ও এক নারী প্রশিক্ষণার্থীর আচরণ ও চলাফেরা তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রথমে সহকর্মীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। পরে কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীও তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষকের স্ত্রীর কাছেও পৌঁছে যায়। এরপর থেকেই তার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং কেন তিনি বিষয়টি অন্যদের জানিয়েছেন—এ নিয়ে তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি প্রতিষ্ঠান মালিককে জানালে তিনি প্রমাণ চান। তখন তিনি জানান যে তার কাছে সরাসরি কোনো প্রমাণ না থাকলেও বিষয়টি সম্পর্কে কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী বক্তব্য দিতে পারবেন। এরপর প্রতিষ্ঠান মালিক তাকে বলেন, অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন ছিল না। পরবর্তীতে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন কানিজ।

তার দাবি, "যারা অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তারা বহাল তবিয়তে কর্মস্থলে রয়েছেন, অথচ অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরায় তাকে চাকরি হারাতে হয়েছে।"

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষক ও এক প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে জিমে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল। তাদের ভাষ্য, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো অভিযোগকারী প্রশিক্ষককে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সুশাসন বিশ্লেষক সুব্রত কুমার পাল বলেন, "মালিকপক্ষ খেয়ালখুশি মতো যেকোনো কর্মচারীকে চাকরি থেকে বাদ দেবে—এমনটা নৈতিকভাবে একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয়। এ ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত শ্রম আইন রয়েছে এবং বিষয়টি তদারকি করার জন্য নির্দিষ্ট অধিদপ্তরও আছে।" তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, "মালিকপক্ষ নিজের ইচ্ছামতো সব সিদ্ধান্ত নিলে তা একদিকে যেমন শ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘন করে, অন্যদিকে মানুষের প্রতি চরম অন্যায় সৃষ্টি করে। সমাজে যদি মানুষের শুভ বুদ্ধির উদয় না হয়, তবে একসময় বড় ধরনের সামাজিক সংকট তৈরি হবে।"

তবে এ বিষয়ে জিমের স্বত্বাধিকারী সুজন শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, "প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ পেশাগত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কারও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানের কোনো অবস্থান নেই।"

তিনি আরও বলেন, "চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই দেওয়া হয়েছে। বিনা নোটিশে বাদ দেওয়ার বিষয়টি সত্যি নয়, তাকে এই মাসের ১২ তারিখে বলা হয়েছে যে আগামী মাস থেকে আর আসার দরকার নেই। তা ছাড়া তার সাথে আমাদের কোনো চুক্তিপত্র নেই, ট্রেইনার হিসেবে তাকে কোনো নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়নি।" অন্যান্য কর্মীদের কোনো নিয়োগপত্র আছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন শেখ বলেন, "এটি একটি ক্লাব, এখানে কেউ চাকরি করে না। প্রশিক্ষক হিসেবে যারা কাজ করেন তারা পার্টটাইম কাজের জন্য পারিশ্রমিক পান।" অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের বাইরে কার সাথে কার কী সম্পর্ক থাকবে সেটি তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার, এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারে না।