মঙ্গলবার , ১৬ জুন ২০২৬
 মঙ্গলবার , ১৬ জুন ২০২৬

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো নেই নজরুলের ভাস্কর্য

আইকন
আরবিসি নিউজ
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ন
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো নেই নজরুলের ভাস্কর্য

আরবিসি ডেস্ক : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে ভালো নেই কাজী নজরুল ইসলামের ভাস্কর্য। অযত্ন ও অবহেলায় ভাস্কর্যের গায়ে পাখির বিষ্ঠা ও ধুলাবালির স্তর জমেছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ম্লান হয়ে পড়ছে ভাস্কর্যটির নান্দনিক সৌন্দর্য। দেখে মনে হয় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব থেকে অবহেলিত জিনিস নজরুলের ভাস্কর্য।

দেখা যায়, ভাস্কর্য চত্বরের চারপাশে কিছুটা নজরদারি থাকলেও মূল ভাস্কর্যের রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে ঘাটতি। দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না করায় ভাস্কর্যের গায়ে ময়লার স্তর তৈরি হয়েছে। ফলে ভাস্কর্যের স্বাভাবিক নান্দনিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কবি নজরুল ১৯১৩-১৪ সালের দিকে ময়মনসিংহের ত্রিশালে এসেছিলেন। তার শৈশবের নানান স্মৃতি এখানে জড়িয়ে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সাথেও এই বিষয়টি জড়িত। ২০০৫ সালের ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ও নজরুল গবেষক ড. মো. সাহাবউদ্দিন বলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুর তিন দশক পর ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। নজরুল তার বৈচিত্র্যময় জীবনের একটি বছর কাটিয়েছেন ত্রিশালের এই নামাপাড়ায়। সেই স্মৃতির প্রতীক হিসেবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রস্থলে স্থাপন করা হয়েছে কবি নজরুলের ভাস্কর্য। 

তিনি আরও বলেন, ভাস্কর্যটিকে ঘিরে সচেতনতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব রয়েছে। জাতীয় কবির স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে এই ভাস্কর্যটি যাতে যথাযথ মর্যাদা ও নিয়মিত পরিচর্যার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিফাত শাহরিয়ার প্রিয়ান বলেন, নজরুল ভাস্কর্যের গায়ে এভাবে পাখির বিষ্ঠা, ময়লার আস্তর থাকা অনাকাঙ্ক্ষিত। বরং এটি সুন্দর ও পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। নিয়মিত তত্ত্বাবধান করলে ভাস্কর্যের উজ্জ্বলতা বাড়বে। এ ব্যাপারে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধন কমিটির আহ্বায়ক ও প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধন খাতে আলাদা কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। তবুও নির্দিষ্ট সময় পর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান ও স্থাপনাসমূহ বিভিন্নভাবে সংস্কার এবং সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হয়। নজরুল ভাস্কর্যের বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।