রাজশাহীর বাগমারায় ঘরে ঢুকে তিন জনকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার-টাকাসহ মালামাল চুরির অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাগমারায় পরিবারের তিন সদস্যকে অচেতন করে ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকার, রুপার গহনা,, নগদ টাকা ও পোশাক চুরির অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বড়বিহানালী ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. রফিকুল ইসলাম (৫৫) বাগমারা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
রফিকুল ইসলাম খালিশপুর গ্রামের মৃত তাহের আলী মণ্ডলের ছেলে। তিনি স্ত্রী মোছাঃ তারা বিবি (৫০) ও ছোট মেয়ে রুবি খাতুনকে (২৫) নিয়ে বসবাস করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। এর কিছুক্ষণ পর অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি দেয়াল টপকে বাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রফিকুল ইসলামের মেয়ে রুবি খাতুনের দাবি, তিনি দুই ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে বাবাকে ডাকেন। এ সময় মুখে কালো মুখোশ ও মাথায় ক্যাপ পরা ওই ব্যক্তিরা তাঁকে ভয় দেখিয়ে বলেন, “আর একটি কথা বললে গলা কেটে ফেলবো।” পরে তাঁর নাকের কাছে চেতনানাশক জাতীয় কোনো পদার্থ ধরলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে জানান রুবি।
অভিযোগে বলা হয়, বুধবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে ঘুম থেকে উঠে রফিকুল ইসলাম ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো দেখতে পান। পরে আলমারি খুলে দেখা যায়, সেখানে রাখা ২ ভরি স্বর্ণের গহনা, আনুমানিক ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের; ৯ ভরি রুপার চাঁদি, আনুমানিক ৫৪ হাজার টাকা মূল্যের; নগদ ১০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৫০ হাজার টাকা মূল্যের পোশাক নেই।
এ ছাড়া একটি এলইডি টিভি বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে পাশের পুকুরে ফেলে রাখা হয় বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয় লোকজন পুকুর থেকে টিভিটি দেখতে পান।
রফিকুল ইসলামের ধারণা, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিট থেকে বুধবার ভোর ৪টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা দেয়াল টপকে বাড়িতে প্রবেশ করে চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ ঘটনায় মো. আপন সরদার (৩২) ও শরিফা বিবি (৪৫) সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ রয়েছেন।
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার খবর জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।