সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

নারীদের নিয়েই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে: কাজী শহিদুল ইসলাম

আরবিসি নিউজ
আরবিসি নিউজ
৩০ জুন ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ন
নারীদের নিয়েই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে: কাজী শহিদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক নারী, তাই নারীদের পেছনে রেখে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব নয়। এসডিজি অর্জন করতে হবে নারীদের সঙ্গে নিয়েই। এক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ে নারী নেতৃত্বের বিকাশ, তরুণীদের ক্ষমতায়নে এসডিজির স্থানীয়করণ কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

মঙ্গলবার রাজশাহীতে আয়োজিত ‘এসডিজি-৫ ও এসডিজি-১৬ বিষয়ক স্থানীয়করণ কাঠামো অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। ইউএনওপিএস বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এবং জয়েন্ট এসডিজি তহবিলের সহায়তায় পরিচালিত ‘বাংলাদেশে এসডিজি-৫ ও এসডিজি-১৬ স্থানীয়করণের মাধ্যমে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নগরের একটি তিন তারকা হোটেলে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা শুধু নীতিমালা বা কাগজের বিষয় নয়; এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সমতা প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিত করার একটি বাস্তব প্রক্রিয়া। এই লক্ষ্য অর্জনে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, উন্নয়ন সহযোগী এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, নারীরা সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী। তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না। স্কুল ও মাদ্রাসার কিশোরী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। আজ যারা শিক্ষার্থী, আগামী দিনে তারাই পরিবার, সমাজ, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবে। তাই ছোট বয়স থেকেই তাদের আত্মবিশ্বাস, নাগরিক দায়িত্ববোধ, অধিকার সচেতনতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এসডিজি-৫ আমাদের লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলে, আর এসডিজি-১৬ শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গঠনের দিকনির্দেশনা দেয়। এই দুটি লক্ষ্য পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। নারী যদি নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ, মত প্রকাশ এবং নেতৃত্বের সুযোগ না পায়, তাহলে অন্তর্ভুক্তিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আবার প্রতিষ্ঠানগুলো যদি জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক না হয়, তাহলে নারীর ক্ষমতায়নও পূর্ণতা পাবে না।

সভায় জানানো হয়, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী—এই তিন জেলায় বাস্তবায়িত এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ৯০০ নারী শিক্ষার্থীর নেতৃত্ব বিকাশ, অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতে কাজ করা হয়েছে। এসডিজি বাস্তবায়নের এই কাঠামো ভবিষ্যতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইউএনওপিএস বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শিরিন সুলতানা বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে পরিচালিত এমন সমাধানকে সমর্থন করা হচ্ছে, যা নারীর নেতৃত্ব এবং স্থানীয় পর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করে। পরামর্শদাতা সহায়তার সুযোগ সৃষ্টি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের মাধ্যমে এসডিজি-৫ ও এসডিজি-১৬ অর্জনের জন্য টেকসই পথ তৈরি করা হচ্ছে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান। এছাড়াও বক্তব্য দেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) টুকটুক তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন, রাজশাহী রিভার ভিউ কালেক্টরেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা পারভিন, রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসাবেলা সাত্তার, লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইরিন জাফর প্রমুখ।

rbcnewsbd.com
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

নারীদের নিয়েই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে: কাজী শহিদুল ইসলাম

নারীদের নিয়েই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে: কাজী শহিদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক নারী, তাই নারীদের পেছনে রেখে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব নয়। এসডিজি অর্জন করতে হবে নারীদের সঙ্গে নিয়েই। এক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ে নারী নেতৃত্বের বিকাশ, তরুণীদের ক্ষমতায়নে এসডিজির স্থানীয়করণ কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

মঙ্গলবার রাজশাহীতে আয়োজিত ‘এসডিজি-৫ ও এসডিজি-১৬ বিষয়ক স্থানীয়করণ কাঠামো অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। ইউএনওপিএস বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এবং জয়েন্ট এসডিজি তহবিলের সহায়তায় পরিচালিত ‘বাংলাদেশে এসডিজি-৫ ও এসডিজি-১৬ স্থানীয়করণের মাধ্যমে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নগরের একটি তিন তারকা হোটেলে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা শুধু নীতিমালা বা কাগজের বিষয় নয়; এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সমতা প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিত করার একটি বাস্তব প্রক্রিয়া। এই লক্ষ্য অর্জনে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, উন্নয়ন সহযোগী এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, নারীরা সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী। তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না। স্কুল ও মাদ্রাসার কিশোরী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। আজ যারা শিক্ষার্থী, আগামী দিনে তারাই পরিবার, সমাজ, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবে। তাই ছোট বয়স থেকেই তাদের আত্মবিশ্বাস, নাগরিক দায়িত্ববোধ, অধিকার সচেতনতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এসডিজি-৫ আমাদের লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলে, আর এসডিজি-১৬ শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গঠনের দিকনির্দেশনা দেয়। এই দুটি লক্ষ্য পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। নারী যদি নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ, মত প্রকাশ এবং নেতৃত্বের সুযোগ না পায়, তাহলে অন্তর্ভুক্তিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আবার প্রতিষ্ঠানগুলো যদি জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক না হয়, তাহলে নারীর ক্ষমতায়নও পূর্ণতা পাবে না।

সভায় জানানো হয়, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী—এই তিন জেলায় বাস্তবায়িত এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ৯০০ নারী শিক্ষার্থীর নেতৃত্ব বিকাশ, অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতে কাজ করা হয়েছে। এসডিজি বাস্তবায়নের এই কাঠামো ভবিষ্যতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইউএনওপিএস বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শিরিন সুলতানা বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে পরিচালিত এমন সমাধানকে সমর্থন করা হচ্ছে, যা নারীর নেতৃত্ব এবং স্থানীয় পর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করে। পরামর্শদাতা সহায়তার সুযোগ সৃষ্টি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের মাধ্যমে এসডিজি-৫ ও এসডিজি-১৬ অর্জনের জন্য টেকসই পথ তৈরি করা হচ্ছে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান। এছাড়াও বক্তব্য দেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) টুকটুক তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন, রাজশাহী রিভার ভিউ কালেক্টরেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা পারভিন, রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসাবেলা সাত্তার, লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইরিন জাফর প্রমুখ।