মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬

রাজশাহীতে বাকস্বাধীনতা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল নাগরিক সম্পৃক্ততা বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠিত

আরবিসি নিউজ
আরবিসি নিউজ
০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে বাকস্বাধীনতা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল নাগরিক সম্পৃক্ততা বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর), বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় 'মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সংলাপ, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ ও সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ' শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

 মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক মুলাবোধ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করার লক্ষো আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর), বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় রাজশাহী মহানগরীর এক অভিজাত হোটেলের হলরুমে 'Dialogue on Freedom of Expression: Advancing Awareness and Responsible Civic Engagement' শীর্ষক একটি সংলাপের আয়োজন করা হয়।

সোমবার (৩ আগষ্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সংলাপে মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ মোট ২৭ জন অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর), বাংলাদেশ-এর হিউম্যান রাইটস অফিসার মো. জাহিদ হোসেন এবং হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স ফোরাম (এইচআরডিএফ), রাজশাহীর আহ্বায়ক রাশেদ রিপন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)'র সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির।

এ সংলাপে লিখিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান।তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং গণতন্ত্র, জবাবদিহি, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। ভয়ভীতি, হয়রানি বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়া আইনসম্মতভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, বর্তমান ডিজিটাল বাস্তবতায় গুজব, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, অনলাইন হয়রানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর তথ্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি ডিজিটাল সাক্ষরতা, তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক চর্চা জোরদার করা প্রয়োজন।

এ সময় মানবাধিকারের মৌলিক নীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য' শীর্ষক সংলাপ উপস্থাপনা করেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর), বাংলাদেশ-এর হিউম্যান রাইটস অফিসার মো. জাহিদ হোসেন। তিনি মানবাধিকারের মৌলিক নীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিধি এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক মানবাধিকার হলেও তা অন্যের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা ক্ষুন্ন করার সুযোগ দেয় না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার পাশাপাশি বৈষম্য, শত্রুতা বা সহিংসতায় উসকানি দেয় এমন ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিরোধেও মানবাধিকারসম্মত ও আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। এ বিষয়ে তিনি রাবাত প্ল‍্যান অব একশনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

উন্মুক্ত এ আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার বর্তমান চ্যালেঞ্জ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, ডিজিটাল পরিসরে নিরাপত্তা, ঘৃণাত্মক বক্তব্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সংলাপের গুরুত্ব নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এ সংলাপে সমাজকর্মী হাসিনুল ইসলাম চুন্নু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ে নাগরিক সমাজের আরও অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচি আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম. কে. নোমান বলেন, মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে সত্য ও তথ্যনির্ভর অবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।

এ আলোচনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, রাষ্ট্রকে মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকারের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

এ সংলাপে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ নাসের বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আগে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে নানামুখী প্রতিবন্ধকতা ছিল। জুলাই পরবর্তী সময়েও ভিন্নমত প্রকাশের ক্ষেত্রে নতুন ধরনের কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন।

এ সময় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাথিং মার্মা পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের মতপ্রকাশ ও অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ সংলাপে দিনের আলো হিজড়া উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি মোহনা ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সমাজের সকলের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়াও আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল রাজওয়ার, নারী নেত্রী আলিমা খাতুন লিমা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অঞ্জনা সরকার, আদিবাসী নেত্রী সাবিত্রী হেমব্রম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মামুন আব্দুল কাইয়ুম।

বক্তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেন, 'মতপ্রকাশের স্বাধীনতা শুধু একটি সাংবিধানিক ও মানবাধিকার নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক সমাজের প্রাণশক্তি। ভয়মুক্তভাবে মত প্রকাশের সুযোগ, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ এবং সংলাপের সংস্কৃতি-এই চারটি ভিত্তির ওপরই একটি মানবাধিকারসম্মত ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তাই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার পাশাপাশি দায়িত্বশীল নাগরিক চর্চা এবং পারস্পরিক সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাও সমানভাবে জরুরি।"

তিনি আরও বলেন, 'রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার রক্ষাকারী এবং তরুণ সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও সুসংহত করা সম্ভব। সংলাপ পারস্পরিক আস্থা সৃষ্টি করে, বিভাজনের পরিবর্তে পারস্পরিক বোঝাপড়ার সুযোগ তৈরি করে এবং একটি অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবাধিকারসম্মত ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের পথ সুগম করে।"

সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংলাপের পরিসর সম্প্রসারণ, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, মানবাধিকার শিক্ষা ও ডিজিটাল সাক্ষরতা জোরদার এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীল সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আশা প্রকাশ করে যে, এ ধরনের সংলাপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ জোরদার এবং রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপের পরিসর সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি অধিকতর মানবাধিকারসম্মত, সহনশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

rbcnewsbd.com
সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
প্রকাশিত: সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬

রাজশাহীতে বাকস্বাধীনতা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল নাগরিক সম্পৃক্ততা বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠিত

রাজশাহীতে বাকস্বাধীনতা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল নাগরিক সম্পৃক্ততা বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর), বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় 'মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সংলাপ, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ ও সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ' শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

 মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক মুলাবোধ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করার লক্ষো আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর), বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় রাজশাহী মহানগরীর এক অভিজাত হোটেলের হলরুমে 'Dialogue on Freedom of Expression: Advancing Awareness and Responsible Civic Engagement' শীর্ষক একটি সংলাপের আয়োজন করা হয়।

সোমবার (৩ আগষ্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সংলাপে মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ মোট ২৭ জন অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর), বাংলাদেশ-এর হিউম্যান রাইটস অফিসার মো. জাহিদ হোসেন এবং হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স ফোরাম (এইচআরডিএফ), রাজশাহীর আহ্বায়ক রাশেদ রিপন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)'র সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির।

এ সংলাপে লিখিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান।তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং গণতন্ত্র, জবাবদিহি, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। ভয়ভীতি, হয়রানি বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়া আইনসম্মতভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, বর্তমান ডিজিটাল বাস্তবতায় গুজব, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, অনলাইন হয়রানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর তথ্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি ডিজিটাল সাক্ষরতা, তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক চর্চা জোরদার করা প্রয়োজন।

এ সময় মানবাধিকারের মৌলিক নীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য' শীর্ষক সংলাপ উপস্থাপনা করেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর), বাংলাদেশ-এর হিউম্যান রাইটস অফিসার মো. জাহিদ হোসেন। তিনি মানবাধিকারের মৌলিক নীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিধি এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক মানবাধিকার হলেও তা অন্যের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা ক্ষুন্ন করার সুযোগ দেয় না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার পাশাপাশি বৈষম্য, শত্রুতা বা সহিংসতায় উসকানি দেয় এমন ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিরোধেও মানবাধিকারসম্মত ও আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। এ বিষয়ে তিনি রাবাত প্ল‍্যান অব একশনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

উন্মুক্ত এ আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার বর্তমান চ্যালেঞ্জ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, ডিজিটাল পরিসরে নিরাপত্তা, ঘৃণাত্মক বক্তব্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সংলাপের গুরুত্ব নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এ সংলাপে সমাজকর্মী হাসিনুল ইসলাম চুন্নু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ে নাগরিক সমাজের আরও অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচি আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম. কে. নোমান বলেন, মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে সত্য ও তথ্যনির্ভর অবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।

এ আলোচনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, রাষ্ট্রকে মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকারের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

এ সংলাপে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ নাসের বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আগে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে নানামুখী প্রতিবন্ধকতা ছিল। জুলাই পরবর্তী সময়েও ভিন্নমত প্রকাশের ক্ষেত্রে নতুন ধরনের কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন।

এ সময় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাথিং মার্মা পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের মতপ্রকাশ ও অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ সংলাপে দিনের আলো হিজড়া উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি মোহনা ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সমাজের সকলের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়াও আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল রাজওয়ার, নারী নেত্রী আলিমা খাতুন লিমা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অঞ্জনা সরকার, আদিবাসী নেত্রী সাবিত্রী হেমব্রম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মামুন আব্দুল কাইয়ুম।

বক্তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেন, 'মতপ্রকাশের স্বাধীনতা শুধু একটি সাংবিধানিক ও মানবাধিকার নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক সমাজের প্রাণশক্তি। ভয়মুক্তভাবে মত প্রকাশের সুযোগ, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ এবং সংলাপের সংস্কৃতি-এই চারটি ভিত্তির ওপরই একটি মানবাধিকারসম্মত ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তাই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার পাশাপাশি দায়িত্বশীল নাগরিক চর্চা এবং পারস্পরিক সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাও সমানভাবে জরুরি।"

তিনি আরও বলেন, 'রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার রক্ষাকারী এবং তরুণ সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও সুসংহত করা সম্ভব। সংলাপ পারস্পরিক আস্থা সৃষ্টি করে, বিভাজনের পরিবর্তে পারস্পরিক বোঝাপড়ার সুযোগ তৈরি করে এবং একটি অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবাধিকারসম্মত ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের পথ সুগম করে।"

সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংলাপের পরিসর সম্প্রসারণ, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, মানবাধিকার শিক্ষা ও ডিজিটাল সাক্ষরতা জোরদার এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীল সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আশা প্রকাশ করে যে, এ ধরনের সংলাপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ জোরদার এবং রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপের পরিসর সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি অধিকতর মানবাধিকারসম্মত, সহনশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।